বাংলাদেশ ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে- মোস্তাফা জব্বার

টেকআলো প্রতিবেদক:
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ফাইভ -জি প্রযুক্তি কেবল মোবাইলে কথা বলা কিংবা ইন্টারনেট ব্রাউজ করার প্রযুক্তি অথবা আমাদের জীবন যাপনের ক্ষেত্রে একটি ছোট্র ঢেউ না। অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লবের ট্রেন মিস করা আমাদের দেশটির জন্য ডিজিটাল শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য ফাইভজি প্রযুক্তি অপরিহার্য। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ফাইভ জি প্রযুক্তি যুগে প্রবেশ করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালে ৫জি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।
মন্ত্রী ১৬ অক্টোবর ঢাকায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিটিআরসি আয়োজিত বাংলাদেশে ফাইভ -জি শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো: জহুরুল হক, বিটিআরসি কমিশনার আমিনুল হাসান এবং বিটিআরসি মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শহিদুল আলম বক্তৃতা করেন।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি দুনিয়ায় ৫জির সাথে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব সংযোগ ঘটানো হয়েছে। ৫জি এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যে সব দেশে মানুষ নাই, যন্ত্র এবং প্রযুক্তি সেই সব শুন্যতা পূরণ করবে। কিন্তু বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশের জন্য ৫জি কী হবে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই বিষয়ে প্রযুক্তি দুনিয়া এখন দুই ভাগে বিভক্ত। চালকবিহীন গাড়ী প্রযুক্তি জাপানিদের জন্য আনন্দের। কিন্তু আমাদের জন্য তা মোটেও সুখের নয়। বিদেশে আমাদের হাজার হাজার চালক কর্মচ্যূত হওয়া আমাদের কাম্য নয়।
তিনি বলেন, তিনিটি শিল্প বিপ্লব আমরা অতীতে মিস করেছি, এবার আমরা মিস করতে পারি না। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, প্রযুক্তিকে আমরা আমাদের প্রয়োজনে, আমাদের জন্য, আমাদের মত করে ব্যবহার করব।

এক্ষেত্রে দেশে কম্পিউটারে বাংলা হরফে পত্রিকা প্রকাশের উদ্ভাবক জনাব মোস্তাফা জব্বার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ১৯৮৭ সাল থেকে প্রকাশনা শিল্পে সারা দুনিয়া যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বাংলাদেশও সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রিন্টিং শিল্পের ৩২৪ বছরের পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে পৃথিবীর সমানতালে বাংলাদেশ যাত্রা শুরু করতে সক্ষম হয়েছে।
৫জির সাথে জনগণ এবং শিল্পকে সম্পৃক্ত করার যুতসই উপায় আমাদেরকে বের করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫জি হচ্ছে একটি শিল্প বিপ্লবের মহাসড়ক। যথা সময়ে আমরা এই মহাসড়ক নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। দেশে ৫জির যাত্রা যাতে সহজ হয় সেই লক্ষ্যে আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করতে হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ সংশ্লিষ্ট ট্রেডবডির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গাইড লাইন তৈরিতে পরামর্শ ও মতামত গ্রহণ করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, এআই, আইওটি, রোবটিক, বিগডাটা এবং ব্লকচেইনের মত প্রযুক্তির সাথে ৫জি যে বাড়তি সুবিধা দেবে যা এই মূহুর্তে কল্পনাও করা কঠিন। সেই বিষয় সমূহও আমাদের গাইড লাইন প্রণয়নের সময় ভাবতে হবে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রযুক্তিতে শতশত বছর পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ গত পৌনে এগার বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিশ্বে নেতৃত্বদানকারি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশ থেকে এখন প্রযুক্তি গ্রহণ করতে চায়। শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ নামটি এখন তথ্যপ্রযুক্তি দুনিয়ায় একটি ব্র্যান্ড হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে আমদানি নির্ভর বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল পণ্যের রপ্তানিকারক দেশে উন্নীত হয়েছে। ডিজিটাল পণ্যের ওপর নগদ সহায়তা ও কর অবকাশসহ তার যুগান্তকারি বিভিন্ন উৎপাদন বান্ধব কর্মসূচি আমদানি সক্ষমতা বাংলাদেশ আজ রপ্তানি নির্ভরতা অর্জন করেছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের ছেলে মেয়েরা অত্যন্ত মেধাবী। এই প্রজন্মকে নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়া জয় করতে চাই। কাজেই ৫জিকে গুরুত্বের সাথে দেখা উচিৎ।
তিনি বলেন. গত ৮ মাস আগে মেইড ইন বাংলাদেশ শ্লোগান দিয়েছিলাম, এখন দেশের উৎপাদিত মোবাইল থেকে চাহিদার শতকরা ৫০ভাগ আমরা বাংলাদেশের তৈরি মোবাইল দিয়ে পুরণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের ছেলে মেয়েরা রোবট বানানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমরা সৌদি আরবে আইওটি ডিভাইস রপ্তানি করছি। ৫জি রোড ম্যাপের অংশ বিশেষ আমরা ইতোমধ্যে জনসমক্ষে তুলে ধরেছি।