“ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বৈশ্বিক কর্মসূচিতে রূপান্তর জাতির জন্য একটি বড় অর্জন”

টেকআলো প্রতিবেদক:
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি দেশের গন্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক কর্মসূচিতে রূপান্তর লাভ করেছে।। প্রযুক্তি দুনিয়ায় ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন একটি সফল বাংলাদেশের নাম। ২০০৮ সালে ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ২০১৯ সালে কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে গ্রহণ ডিজিটাল বাংলাদেশের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার প্রতিফলন। বাংলাদেশ এখন তলাবিহীন ঝুড়ি নয়, উন্নয়নের অভিযাত্রায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাওয়া খ্যাতি অর্জনকারি দেশের নাম।
মন্ত্রী সোমবার ঢাকায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কমনওয়েলথ টেলিযোগাযোগ সংস্থার (সিটিও) ৫৯তম কাউন্সিল সভা ও ‘টুওয়ার্ডস ডিজিটাল কমনওয়েলথ’ শীর্ষক বার্ষিক ফোরামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো: জহুরুল হক এর সভাপতিত্বে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টেবর পর্যন্ত পাঁচদিন ব্যাপী ফোরামের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ফিজি রিপাবলিক এর অর্থনীতি, সিভিল সার্ভিস এবং যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রী আয়াজ সাইদ কাইয়ুম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি একে এম রহমত উল্লাহ এমপি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, সিটিও এর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি গিসা ফোয়াতাই এবং সিটিও এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল মেম্বার পিটার কায়ান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাবান ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অভিজ্ঞ নেতৃত্বের সফল অর্জন। র্এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ডিজিটালাইজেশনের ফলে আমরা কৃষি প্রধান দেশ থেকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে এসে ডিজিটাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছি।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের স্বাচ্ছ্যন্দের বিষয়টি সামনে রেখে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ কাজ করছে।
বাংলাদেশে ইতিমধ্যে ফোরজি চালু করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ৫জির পরীক্ষামূলক কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয়েছে। খুব দ্রুত ৫জি লাইসেন্স দিতে ৫জি পলিসি ও ইকোসিস্টেম তৈরী করা হচ্ছে।
সম্মেলনে ১৫টি সেশনের একটি বড় অংশজুড়ে ৫জি এবং সাইবার নিরাপত্তা ইস্যু থাকবে বলে জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী। ইতিমধ্যে ৪ হাজার ১৪৯ ইউনিয়নে এক লাখ ২০ হাজার ফাইবার অপটিক ক্যাবল দিয়ে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন কমনওয়লেথভুক্ত দেশগুলোর সরকার, নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান, অপারেটর, ইন্ডাস্ট্রিসহ সব অংশীদারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্লাটফর্র্মের এবারের ফোরামে ডিজিটাল রূপান্তরের জন্য ব্রডব্যান্ড পরিকল্পনা, বৈশ্বিক সেবা তহবিলের পরিবর্তিত ধরন, ওভার দ্য টপ সেবা, তরঙ্গ নিরপেক্ষতার প্রভাব, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা নীতিমালা, ব্লক চেইন ও বৈশ্বিক সুবিধা, তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে তারুণ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফোরামে আলোচনা হবে।
এই সভার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের গুরুত্বের মাত্রা নির্ধারণ, ভবিষৎ কর্মসূচি প্রণয়ন ও সংগঠনের অগ্রগতি পরীক্ষা করে দেখার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের আর্থিক ও কৌশলগত বিষয়সমূহের পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা এবং চূড়ান্ত সুপারিশ সদস্য দেশসমূহের নিকট উপস্থাপন করা হয়।
এই আয়োজনে কমনওয়েলথভুক্ত দেশসমূহ ছাড়াও অন্যান্য দেশের টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী, সচিব, রেগুলেটর প্রধান, সরকারি, বেসরকারি সংস্থার পদস্থ কর্মকর্তাসহ টেলিকম ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট প্রায় আড়াইশ থেকে তিনশ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। ফোরামের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশন এবং কাউন্সিল মিটিং একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সকল কমনওয়েলথভুক্ত সংস্থার মধ্যে সিটিও সবচেয়ে পুরনো এবং বড় সংস্থা। বর্তমানে এর সদস্য দেশের সংখ্যা ৫৩টি।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী টুওয়ার্ডস ডিজিটাল কমনওয়েলথ ফর অল শীর্ষক সেশনটি সঞ্চালনা করেন। এছাড়াও ৫জি ব্রডব্যান্ড ডিপ্লয়মেন্ট শীর্ষক সেশন এবং ইউনিভার্সেল একসেস, সিটিও শীর্ষক সেশন দু‘টিতে প্রধান অথিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাইড লাইনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর সাথে ফিজি রিপাবলিক এর অর্থনীতি, সিভিল সার্ভিস এবং যোগাযোগ বিষয়ক মন্ত্রী আয়াজ সাইদ কাইয়ুম সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তারা দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে মতবিনিময় করেন।